
জানা গেছে, শনিবার (২৯ জুন) অন্তঃসত্ত্বা ইতিকে ফাতেমা (প্রাঃ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে তার সিজার করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মনজুরুল মুরশিদ। সিজারে তিনি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। সিজারের পর তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। যা চিকিৎসক নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। এতে ইতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৩ টার দিকে খুলনায় রেফার্ড করেন। সেখানে নেয়ার পথে মারা যান ইতি । এ ঘটনায় প্রসূতির স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ফাতেমা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করে। তাদের অভিযোগ, ত্রুটিপূর্ণ সিজারের কারণে ইতির মৃত্যু হয়েছে। এসময় তারা ডা. মনজুরুল মুরশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও হাসপাতালটি বন্ধের দাবি করেন।
এ বিষয়ে ডা. মনজুরুল মুরশিদ মুঠোফোনে জানান, সিজারের পর রোগীর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অনেক চেষ্টা করেও তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সিজারে কোন ত্রুটি ছিলো না। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, ফাতেমা হাসপাতালটি তার নয়। তিনি সেখানে রোগীর দেখেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, ফাতেমা হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হলেন অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদুজ্জামান ডিটু। বাকি দুই জন হলেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রেহেনেওয়াজ রনি ও ডা. নাদিয়া।
আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সেটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২৪ জুন রাত ১০ টার দিকে যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের সিটি হসপিটালে সিজার করা হয় যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের স্ত্রী কাজলকে। ২৫ জুন তার মৃত্যু হয়। এর আগের দিন সদর উপজেলার রুপদিয়ার গ্রামীণ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারের পর মারা যান নরেন্দ্রপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রিমা।ত্রুটিপূর্ণ সিজারে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। সিভিল সার্জনের নির্দেশে দুটি ঘটনায় আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন।
Copyright © 2026 সংবাদের আলো. All rights reserved.